
অনলাইন ডেস্ক: দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মেয়াদ আড়াই থেকে তিন বছর করার কথা ভাবছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (পিটিআই) সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ছয় গুণ বাড়িয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রশিক্ষণের নতুন কাঠামো
প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে দক্ষ করতে প্রশিক্ষণের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাসের ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন। এরপর নির্ধারিত সিলেবাস বা মডিউল অনুযায়ী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ মডিউল ও পরীক্ষা শেষ করতে হবে।
বর্তমানে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণব্যবস্থার জন্য জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) নতুন মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা এ মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নেবেন। দুই মাসের ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণের পর বাকি ১০ মাস অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ে শেষ করার কথা রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে পিটিআইগুলোর বার্ষিক প্রশিক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার। তা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন বিভাগকে যুক্ত করা হবে। কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে স্থায়ীভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে নিয়োজিত না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিড-ডে মিল ও প্রযুক্তি উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় মিড-ডে মিল চালু রয়েছে। বাকি উপজেলায় কর্মসূচি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার নিশ্চিত করার আশা করা হচ্ছে।
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগকে ঘিরে ক্লাসরুমের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির কথা জানান তিনি। বিদ্যুৎবিহীন দুর্গম বিদ্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও ব্যান্ডউইথ নিশ্চিতের কাজও চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি
সারাদেশে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, পদোন্নতির আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফাইড কপির অপেক্ষা চলছে। কপি পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলে জানান তিনি। এরপর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বইয়ের বোঝা কমানো, গল্পের মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত-বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম যুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য এলাকার শিক্ষকদের বিশেষ ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনে আবাসিক স্কুলের ব্যবস্থার কথাও সরকারের ভাবনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন