
অনলাইন ডেস্ক: বাজারে ফের নিষিদ্ধ অপচনশীল পলিথিনের ব্যবহার দেখা দেওয়ায় উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিস্তার ঠেকাতে অবৈধ উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ এবং কাঁচাবাজারে পলিথিনের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাবরিন সুলতানা বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, মাছের আড়ৎ ও ফলের দোকানে পলিথিনের ব্যবহার বাড়ছে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব পালনে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটি ও পানির গুণাগুণ নষ্ট করে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা তৈরি করে এবং ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ পলিথিন উৎপাদন বন্ধ ও বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কাপড়, পাট বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদারের কথা বলেছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে পলিথিনে পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতা ও ক্রেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কম দাম এবং বিকল্প ব্যাগের স্বল্পতার কারণে এর ব্যবহার চলছে।
প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের প্রবাল প্রাচীরও ঝুঁকিতে পড়েছে। নাফ নদীর মোহনা, টেকনাফ ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকা থেকে স্রোতে ভেসে বর্জ্য দ্বীপে পৌঁছাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকও সৈকতে জমা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দ্বীপে পলিথিন, ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক ও বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত সামুদ্রিক দূষণ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন