
অনলাইন ডেস্ক: গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, কঠোর নজরদারি ও চালকদের প্রশিক্ষণই সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর প্রধান উপায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও ফিটনেস পরীক্ষায় কঠোরতার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি এবং চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত, মামলা দায়ের এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইন প্রয়োগ করছে। ট্রাফিক বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সমন্বিত পদক্ষেপে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত স্পিড ক্যামেরা ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন, নিয়মিত নজরদারি এবং অদক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাঁর মতে, চালকদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, পথচারীদের অসচেতনতা ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তিনি ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, ফুটপাত ও সড়কের মান উন্নয়ন, পর্যাপ্ত আলো, ট্রাফিক সিগন্যাল, জেব্রা ক্রসিং ও সড়কচিহ্ন স্থাপনের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মাদকাসক্ত বা ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
ড. শামসুল হক আরও বলেন, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, টেম্পো ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় দ্রুতগতির যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। প্রধান সড়কের পাশে ফুটপাত দখল ও মার্কেট গড়ে ওঠাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারের ওপর জোর দেন।
লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোফিজুল ইসলাম বলেন, কিছু চালক মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান। তাই চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে ছোট যানবাহনের চলাচল কমানো না গেলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল পরিদর্শন দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। তিনি নিরাপদ পথচারী পারাপার, মিডিয়ান ব্যারিয়ার, উপযুক্ত বাসস্টপ, পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট রোড মার্কিং এবং স্কুল ও বাজার এলাকায় গতিসীমা নির্ধারণের কথা বলেন।
সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সারাদেশে ৪ হাজার ২৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ২৪৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৫৪৪ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ পথচারী মো. সাফিউর রহমান বলেন, চালক ও পথচারী উভয়ের সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগই দুর্ঘটনা কমাতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন