শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দেশে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আয়োজন ও উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।
ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শুরু হয়েছে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাক ও কাঁসর। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে। শঙ্খধ্বনিতে মুখর মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। দেবী দুর্গার আগমনী সুরে উলুধ্বনি দিয়ে মেতে উঠেছেন ভক্তরা।

একদিকে ধর্মীয় সংগীত, অন্যদিকে প্রদীপ ও মোমবাতির আলোয় রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বাহারি আলোকসজ্জায় উজ্জ্বল দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী পুণ্যার্থী প্রতিমার সামনে এসে প্রণাম করছেন। অনেকে দেবীর কাছে মনের আশা জানাচ্ছেন, কেউ কেউ তুলছেন সেলফি।

মহাসপ্তমী শনিবার ও রোববার

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার ও রোববার মহাসপ্তমী তিথি থাকবে। এ কারণে পরদিন মহাঅষ্টমী থেকে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওইদিন ভক্তরা উপবাস রেখে অঞ্জলি দেবেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করবেন।

মহাষষ্ঠীর দিনে কল্পারম্ভে বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপন করে দশভুজা দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অধিবাসের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আয়োজন শুরু হয়। দেবী দুর্গার সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতীর প্রতিমাও স্থাপন করা হয়েছে।

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবকে ঘিরে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। চার দিন পূজা-অর্চনা, ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ ও আরতি প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজন থাকছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ মণ্ডপ এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্দিরসহ সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে পূজা শুরু হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত বরুন চক্রবর্তী বলেন, মহাষষ্ঠীর সকালের পর্ব কল্পারম্ভে পূজার সংকল্প করা হয়। সন্ধ্যায় বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উদযাপিত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box