
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অন্যতম লাভজনক ও জনপ্রিয় দুটি আন্তনগর ট্রেন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’-এর অনবোর্ড সার্ভিস পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত যোগ্যতা ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালা (পিপিআর) উপেক্ষা করে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি অনভিজ্ঞ ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে ‘রেসপন্সিভ’ করা এবং যোগ্য দরদাতাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দরপত্রদাতারা।
রেল পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (সিসিএম) কার্যালয় থেকে জারি করা ‘Procurement of Physical Service to Provide Onboard Service on 815/816 Parjotak Express Train’ শীর্ষক দরপত্রে মোট ২২টি সিডিউল বিক্রি হয়। ২১টি দরপত্র জমা পড়লেও প্রাথমিক মূল্যায়ন পর্বে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে কোনো যৌক্তিক বা লিখিত সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিযোগিতা সীমিত করে একটি নির্দিষ্ট চক্রকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
দরপত্র মূল্যায়নে সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দরদাতারা। তাদের অভিযোগ, ‘এন কে এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ক্লীন সার্ভিস’কে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই কারিগরিভাবে যোগ্য বা রেসপন্সিভ করা হয়েছে। অথচ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী অনবোর্ড সার্ভিস পরিচালনায় অন্তত পাঁচ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দুই স্টুয়ার্ড ম্যানেজারের দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং ক্যাটারিং স্টুয়ার্ডদের ন্যূনতম এইচএসসি সনদ থাকা বাধ্যতামূলক।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটির দাখিল করা কর্মীদের কয়েকটি সনদ ত্রুটিপূর্ণ ও ভুয়া। এছাড়া ৭০ লাখ টাকার তরল সম্পদ বা লিকুইড অ্যাসেটের ব্যাংক সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কক্সবাজার এক্সপ্রেসের দরপত্র প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরদাতাদের দাবি, বর্তমানে ট্রেনটিতে কর্মরত ‘এস এ কর্পোরেশন’ এবং তাদের সহযোগী বা কথিত সিস্টার কনসার্ন ‘মাহি এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘স্বপ্নীল অ্যাসোসিয়েশটস’কে সুবিধা দিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
মূল্যায়ন থেকে বাদ পড়া ‘উদয়ন পি এন পি’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শামীম মিয়া বলেন, ই-জিপি টেন্ডারে Procuring Entity হিসেবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কীভাবে ভুয়া তথ্য ও ত্রুটিপূর্ণ নথি জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে রেসপনসিভ ঘোষণা করলেন, তা রহস্যজনক। পছন্দসই ভেন্ডরকে কাজ দেওয়ার জন্যই এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা থাকাকালেও সুজিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চারটি ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস দরপত্রে অনিয়ম ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল। বিতর্কের মুখে তৎকালীন বিজয়ী দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল ও স্থগিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেলওয়ে অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ হোসেনের মন্তব্য, মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের এমন আচরণ রেলওয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সিসিএম দপ্তরকে তথ্য ও ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: Daily Amader Matribhumi
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত