শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

অভিযোগ থেকে সমাধান, এক অ্যাপেই পরিচ্ছন্নতার খবর নিচ্ছে ডিএসসিসি

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ নিচ্ছে ডিএসসিসি। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগের মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি নিষ্পত্তি হয়েছে।
অভিযোগ থেকে সমাধান, এক অ্যাপেই পরিচ্ছন্নতার খবর নিচ্ছে ডিএসসিসি

অনলাইন ডেস্ক: অভিযোগ থেকে সমাধান, এক অ্যাপেই পরিচ্ছন্নতার খবর নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির চালু করা ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার পাশে ময়লা জমে থাকা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া ও অন্যান্য পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানো যাচ্ছে।

গত ৭ জুলাই ২০২৬ অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয় ১ আগস্ট। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপটির মাধ্যমে ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ৬৫৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ডিএসসিসির হিসাবে, এ সময়ে পাওয়া অভিযোগের প্রায় ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশের সমাধান হয়েছে। বাকি ২৪৬টি অভিযোগ সিটি করপোরেশনের কার্যপরিধির বাইরে থাকা ওয়াসা, রাজউক, রেলওয়ে, ডিপিডিসি এবং আইন ও প্রশাসনসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নিষ্পত্তির হার গণনার সময় এসব অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অ্যাপটিতে ৪৩৩টি নাগরিক রিভিউ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক, অর্থাৎ ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ব্যবহারকারী ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। অ্যাপটির গড় রেটিং পাঁচের মধ্যে ৪ দশমিক ৫।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই অ্যাপের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি আরও কিছু সেবা একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারে।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অ্যাপটি চালু করা হয়েছে। তবে উদ্যোগটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সময়, একই সমস্যা পুনরায় দেখা দিচ্ছে কি না এবং নাগরিকেরা বাস্তবে কতটা উন্নত সেবা পাচ্ছেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কাজ। নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও কার্যকর সমাধানের পাশাপাশি নাগরিকদের তথ্য ও মতামত সিটি করপোরেশনের কাজকে আরও সুনির্দিষ্ট করতে পারে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box