শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রে দুই কর্মকর্তা

রেলওয়ের কয়েকটি মেগা প্রকল্পে দরপত্র জালিয়াতি, অডিট আপত্তি ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রে দুই কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ রেলওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে নেওয়া যমুনা রেলসেতু, কালুরঘাট সেতু ও সিডিআরপির মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়নে জালিয়াতি, অডিট আপত্তি ধামাচাপা এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. সুবক্তগীন।

যমুনা রেলসেতু প্রকল্পে অডিট আপত্তি

জাইকার অর্থায়নে নির্মিত যমুনা রেলসেতু প্রকল্পে অডিট বিভাগের বিশেষ নিরীক্ষায় ৩৪টি আপত্তি তোলা হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র মূল্যায়নের সময় অযোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে শর্ত পরিবর্তন করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আপত্তি উপেক্ষা করে আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে প্রাক্কলিত দর বাড়ানো হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির বাইরে ঠিকাদারকে ১ হাজার ৭২৬ কোটি টাকার সুবিধা, বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে মালামাল কিনে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা অপচয় এবং অনুমোদিত নকশা ছাড়া ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণে ১১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ের কথাও বলা হয়েছে। জাপান থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়িগুলোরও নিরীক্ষকেরা প্রকল্প এলাকায় সন্ধান পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে রয়েছে।

কালুরঘাট সেতু ও ঠিকাদারি নিয়ে অভিযোগ

কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতু প্রকল্পের টিম লিডার পদে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির বাধ্যতামূলক শর্ত থাকা সত্ত্বেও কৃষি প্রকৌশলে পড়াশোনা করা এক প্রার্থীকে যোগ্য দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান ও তৎকালীন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. সুবক্তগীনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা থেকে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকায় বাড়ানোর পেছনেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। তমা কনস্ট্রাকশন, ম্যাক্স গ্রুপসহ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ, কমিশন আদায় এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের অভিযোগও করা হয়েছে।

ম্যাক্স গ্রুপকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

দুটি কন্ট্রাক্টের জন্য দরদাতার সম্মিলিত বার্ষিক টার্নওভার কমপক্ষে ২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হওয়ার শর্ত থাকলেও ম্যাক্সের টার্নওভার ২০৮.১৭ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সম্মতি চেয়ে প্রস্তাব তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

রেলের জমি দখল

খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। খিলগাঁওয়ে রেলের জমিতে ৫৬০টির বেশি স্থায়ী বাণিজ্যিক দোকান গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। দখলদারদের উচ্ছেদ না করে কর্মকর্তাদের নিয়মিত অর্থ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তদন্তের আশ্বাস

বিতর্কের মধ্যেই আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন) এবং মো. সুবক্তগীনকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) পদে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে কিছু প্রাথমিক তথ্য মন্ত্রণালয় পেয়েছে। তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box