শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সুয়ারেজ লাইনবিহীন এলাকায় এক বছর বিল আদায় বন্ধ রাখবে ওয়াসা

সুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নেই—রাজধানীর এমন এলাকায় আগামী এক বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে সুয়ারেজ বিল আদায় করবে না ঢাকা ওয়াসা।
সুয়ারেজ লাইনবিহীন এলাকায় এক বছর বিল আদায় বন্ধ রাখবে ওয়াসা

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর যেসব এলাকায় ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নেই, সেসব এলাকায় আগামী এক বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে সুয়ারেজ বিল আদায় করতে পারবে না সংস্থাটি। গত ১০ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুয়ারেজ লাইন না থাকলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব এলাকার গ্রাহকদের সাময়িকভাবে বিল দেওয়া থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকা এর আওতায় পড়বে এবং কবে থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আলোচনায় গুলশান ও বনানীসহ কয়েকটি এলাকার নাম এসেছে।

যেসব এলাকায় সুয়ারেজ লাইন নেই

ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ১০টি পরিচালন অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে পূর্ণাঙ্গ সুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে। চারটি অঞ্চলে আংশিক ব্যবস্থা থাকলেও বাকি চারটিতে কোনো সুয়ারেজ লাইন নেই। বৃহত্তর উত্তরা, বৃহত্তর মিরপুরের অঞ্চল-৪ ও অঞ্চল-১০ এবং বারিধারা ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল-৮-এ সুয়ারেজ লাইন নেই।

গুলশান, নিকেতন, বারিধারা, বনানী, মহাখালী ডিওএইচএস, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাতেও ওয়াসার সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক নেই। আংশিক ব্যবস্থা থাকা এলাকাগুলোতেও সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় রাজধানীর অনেক সুয়ারেজ লাইন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর মাত্র ২০ শতাংশ এলাকায় কোনো না কোনো ধরনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পয়ঃবর্জ্য খাল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে গিয়ে মিশছে। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গুলশান-বনানী লেকের দূষণকে এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল অথবা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর গত ১৬ জুলাই এবং সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর ভবনমালিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

বাসিন্দা ও হাউজিং সোসাইটির প্রতিনিধিদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জায়গা ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা না করেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, বিদ্যমান অবকাঠামো ও ভবনের নকশা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

পয়ঃনিষ্কাশন খাতে আদায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি

ওয়াসার কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে পয়ঃনিষ্কাশন খাতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করেছে সংস্থাটি। অথচ রাজধানীর বড় একটি অংশে কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই।

২০১৩ সালে রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেয় ঢাকা ওয়াসা। এর মধ্যে দাশেরকান্দি শোধনাগার নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক পাইপলাইন গড়ে ওঠেনি। উত্তরা, মিরপুর, রায়েরবাজার ও পাগলায় (দ্বিতীয়) বাকি চারটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এসব প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সুয়ারেজ লাইন নেই—এমন এলাকায় বিল আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্টাফ অফিসার নাজমুস সাকিব প্রতিষ্ঠানটির উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে মো. আব্দুল কাদেরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box