
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি (পিওএইচএস)-১-এর ‘গোল্ডেন সানরাইজ’ নামের তিনতলা বাড়িতে ডিজে পার্টির নামে মাদক ও অসামাজিক কার্যক্রম চলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন ওই বাড়িতে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ২৬ জন তরুণীসহ ৮৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির তদন্তে জানা গেছে, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা এসব পার্টির আয়োজন করতেন। ২০২৫ সাল থেকে সেখানে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টি হতো বলে তদন্তে জানা যায়। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আয়োজিত এসব পার্টিতে সমাজের উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানরা অংশ নিতেন বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার রাতে ভুয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়। অনলাইনে প্রচার করা হয়েছিল, বাড়িটি একজন ডিআইজির মালিকানাধীন হওয়ায় সেখানে পুলিশি অভিযানের আশঙ্কা নেই। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে সেখানে মাদকসেবন, উচ্চস্বরে গান, অর্ধনগ্ন নৃত্য ও শিশার ব্যবহার চলত।
ডিবির তদন্তে আরও জানা যায়, বাড়ি থেকে পাওয়া আয়ের ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ব্যাংক হিসাবে যেত। বাড়িটির সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণও তিনি নিজের হাতে রেখেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, তিন বোতল বিদেশি মদ, মাদক সেবনের বিভিন্ন সামগ্রী ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের নেতৃত্বে অভিযানটি চালানো হয়। আটকদের ডিএমপির সামারি কোর্টে নেওয়ার পর ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিদের তালিকায় পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়ে, উচ্চপদস্থ আমলার দুই মেয়ে, সাবেক সেনা কর্মকর্তার ছেলে, কর্মরত সেনা কর্মকর্তার মেয়ে, ব্যাংকার ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের সন্তানদের নাম রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাড়িটি খিলক্ষেত থানার একটি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে। ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শরিফুল ইসলামের দাবি, ফাঁড়িটি পুরোপুরি চালু না হওয়া এবং এলাকায় জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের বসবাস থাকায় তারা এ বিষয়ে তথ্য বা পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাননি। হাউজিংয়ের চেকপোস্টের নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি জানলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে নীরব ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে ডিবির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: Daily Amader Matribhumi
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত