
অনলাইন ডেস্ক: ইতালির রাজধানী রোমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ, মাদ্রিদে তাঁবু গেড়ে অবস্থান এবং ফ্রান্সের রাজপথে বিক্ষোভ—ইউরোপজুড়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তরুণরা।
তাদের অভিযোগ, রাজনীতিকেরা তাদের কথা শুনছেন না এবং তরুণদের চাহিদা ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিভিন্ন দেশে দাবির ধরন আলাদা হলেও রাজনীতি ও সমাজে উপেক্ষিত তরুণদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে তারা একমত।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। ফ্রান্সের কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি এবং ইতালিতে সেনাসদস্য মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে তারা বলছেন, এসব পদক্ষেপ মূল দাবিগুলোকে আড়াল করছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। কোনো কোনো বিক্ষোভ সহিংসতায়ও রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা খাতের পরিবর্তে শিক্ষায় বেশি অর্থ ব্যয় এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
রোমের কাভুর হাইস্কুলের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দামিয়ানো ফুসা বলেন, তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নিতে লড়াই করছেন। তার অভিযোগ, ইতালির বর্তমান ও আগের সরকারগুলো শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে এবং তরুণদের প্রয়োজন উপেক্ষা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিক্ষোভের পেছনে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে তরুণদের দূরে সরে যাওয়ার অনুভূতি কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সমাজতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতি জিওফ্রে প্লেয়ার্স বলেন, তরুণেরা মনে করছেন রাজনীতিতে তাদের কোনো জায়গা নেই এবং তাদের কথা শোনা হচ্ছে না। রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোজারিও ফোরলেনজা আন্দোলনটিকে ‘ইউরোপজুড়ে প্রজন্মগত বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার চাপ এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিও বিক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে। মাদ্রিদে আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে সেপ্টেম্বর থেকে অবস্থান চলছে। গ্রিসের এথেন্সে এক শিক্ষার্থী সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে স্কুলের অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদী আন্দোলন একে অপরের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। আন্দোলনকারীরা নিজেদের কর্মপদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকেও তারা শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইতালির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইউনিয়নের সমন্বয়ক সাবরিনা ব্রিজোলা বলেন, সংগঠনগুলোর উচিত ‘প্রজন্মের ক্ষোভকে’ সংগঠিত করে গঠনমূলক পথে পরিচালিত করা।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত