শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

তিস্তার ভাঙনে আমন ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন কৃষক

তিস্তার ভাঙনে লালমনিরহাট ও রংপুরের দুটি এলাকায় এক সপ্তাহে ২৭ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ফসলি জমি হারিয়ে কৃষক আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন।
তিস্তার ভাঙনে আমন ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন কৃষক

অনলাইন ডেস্ক: রংপুর, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): বর্ষা মৌসুম বিদায় নিয়ে হেমন্তকাল শুরু হলেও তিস্তা অববাহিকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশসাল এলাকায় এক সপ্তাহে ২৭ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কৃষক স্বপ্নের আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় জানিয়েছেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে বসতঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৫০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরের দিকে ধাবিত হয়। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ পরিবারের অনেকে আতঙ্কে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে তারা ওই চরে বসবাস করে চাষাবাদের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিস্তার স্রোতের গতিপথ চরের দিকে ধাবিত হওয়ায় ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেছেন, কয়েক দিন ধরে চল্লিশসাল এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে এবং কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও আবাদি জমি বিলীন হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানিয়েছেন, বন্যার পর হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, তিস্তার দুই তীরে ভাঙন তীব্র হওয়ায় কৃষক আমন ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কৃষকেরা সাড়ে ১৭ বিঘা জমির আমন ধান কাঁচা অবস্থায় কেটেছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box