
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের দোতলায় অবস্থিত ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্ষটিতে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবি, বইপত্র, পাণ্ডুলিপি ও তাঁর জীবন-সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন উপকরণ সংরক্ষিত রয়েছে।
১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় এসে বর্ধমান হাউসে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন নজরুল। সে সময় ভবনটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কবির বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের বাসভবন। ভবনসংলগ্ন পুকুরে গোসল ও সাঁতার কাটতেন কবি এবং পুকুরঘাটে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেন।
কবির স্মৃতি সংরক্ষণে ১৯৭৮ সালের ২৯ আগস্ট দোতলার পশ্চিম পাশে তাঁর থাকার ঘরটি ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন এর উদ্বোধন করেন।
কক্ষটি ছোট ও সাদামাটা। সেখানে নজরুলের বিভিন্ন সময়ের ছবি, তাঁর তিন ছেলে সাব্যসাচী, অনিরুদ্ধ ও বুলবুলের ছবি, প্রমীলার ছবি, কবির গানের খাতা, পাণ্ডুলিপি, বই ও পত্রপত্রিকা রয়েছে। নতুন কিছু সংগ্রহও রাখা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ ছবির পাশে ক্যাপশন না থাকায় সেগুলো শনাক্ত করতে দর্শনার্থীদের অসুবিধা হয়।
নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কক্ষটি সংস্কারের কথা শোনা গেলেও তা কেন করা হচ্ছে না, তিনি জানেন না। তিনি বাংলা একাডেমির পুকুরকে ‘নজরুল স্মৃতিবিজড়িত পুকুর’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঘাটে বড় সাইনবোর্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
নজরুল গবেষণায় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক আনোয়ারুল হক বলেন, কক্ষে নজরুলবিষয়ক গবেষণাধর্মী বইয়ের সংগ্রহ আরও বাড়ানো এবং ঢাকায় নজরুলের কর্মকাণ্ডের একটি দিনপঞ্জি রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি কক্ষটির প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কবি ও গীতিকার মহসিন আহমেদ বলেন, বাংলা একাডেমিতে নজরুল স্মৃতিকক্ষসহ বিভিন্ন জাদুঘর থাকার বিষয়টি অনেকেই জানেন না। প্রধান ফটকে জাদুঘরগুলোর একটি মানচিত্র রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, কক্ষটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন রূপ দেওয়ার জন্য আলোকচিত্রী ও লেখক নাসির আলী মামুনের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং তিনি নজরুলের দুর্লভ কিছু ছবি দিয়েছেন। কক্ষ ছোট হওয়ায় সব ছবি রাখা সম্ভব হবে না; তবে যতটা সম্ভব নান্দনিকভাবে সাজানো হবে। নজরুলবিষয়ক গবেষণাধর্মী বইয়ের সংগ্রহও বাড়ানো হবে। পুকুরের বিষয়টি নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সংস্কারের পাশাপাশি স্মৃতিকক্ষটির পরিচিতি বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এতে এটি নতুন প্রজন্মের নজরুলচর্চা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন