শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের একক ও জোরালো অবস্থানের আহ্বান শামার

কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান যৌথ ও জোরালোভাবে তুলে ধরতে সুশীল সমাজ ও জলবায়ু বিষয়ক এনজিওগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের একক ও জোরালো অবস্থানের আহ্বান শামার

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান যৌথ ও জোরালোভাবে উপস্থাপনে সুশীল সমাজ ও জলবায়ু বিষয়ক এনজিওগুলোকে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে কপ৩১-এ বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অবস্থানপত্র প্রকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অ্যাকশনএইডসহ সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিও সভাটির আয়োজন করে। অবস্থানপত্র তৈরিতে অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সুপারিশ যুক্ত করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান শামা। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

শামা বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান আধা শতাংশেরও কম হলেও দেশটি প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ভূমি তলিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন মোকাবিলাকে জরুরি বলে অভিহিত করেন।

আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দরকষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও গবেষণা থেকে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার জন্য সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জলবায়ু অর্থায়নের রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীর সহজে তহবিল পাওয়ার ব্যবস্থা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন।

সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সরকার জলবায়ু অভিযোজনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান শামা। এসব উদ্যোগের মধ্যে শিল্পখাতে সম্পদের পুনর্ব্যবহার, চক্রাকার অর্থনীতি, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার এবং নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন রয়েছে।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, একটি কার্বন মার্কেট গড়ে তোলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বাংলাদেশে উৎপাদিত ‘সোনার আঁশ’ পাটকে পচনশীল ও শূন্য-বর্জ্য প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরা এবং এর বহুমুখী ব্যবহার প্রচারের লক্ষ্যে কপ৩১ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘পাট প্যাভিলিয়ন’ স্থাপন করবে বলেও জানান তিনি। এ উদ্যোগ শৈল্পিক পাটপণ্যের প্রসার ও বাণিজ্যিক পরিধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন শামা।

সভায় সুশীল সমাজের সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন খাতের অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box