শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাজউকের পারমিট সেবায় ডিজিটাল গতি, ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন

রাজউকের আট জোনে প্লানিং ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন-অনুমোদন অনলাইনে হওয়ায় সেবায় গতি এসেছে। সাত মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন জমা পড়ে, অনুমোদন পেয়েছে ৭ হাজার ৯৯৩টি।
রাজউকের পারমিট সেবায় ডিজিটাল গতি, ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন শতভাগ অনলাইনে হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ কমেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই ধরনের পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৩টি অনুমোদন পেয়েছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্লানিং পারমিটের জন্য ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৫ হাজার ৩৯৩টি অনুমোদন দেওয়া হয়। কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জমা পড়ে ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদন; অনুমোদন দেওয়া হয় ২ হাজার ৬০০টির।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি এবং কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানানোর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। প্লানিং পারমিট নিষ্পত্তির সময়সীমা ৩০ দিন। কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, আগে পারমিট নিতে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ব্যক্তি ও দপ্তরে যেতে হতো। ভোগান্তি কমাতে অনলাইনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, অনলাইন সেবা নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে এবং রাজউকের অন্যান্য সেবাও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে।

জোনভিত্তিক আবেদন ও অনুমোদন

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা জানান, প্লানিং পারমিটে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ে জোন-৪-এ, ১ হাজার ৬৬৩টি। এ জোনে ১ হাজার ৬০৯টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আট জোন মিলিয়ে প্লানিং পারমিটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে কিছু আবেদন, যেগুলোর ক্ষেত্রে কাগজপত্রের ঘাটতি বা প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে।

কনস্ট্রাকশন পারমিটেও জোন-৪-এ সবচেয়ে বেশি, ১ হাজার ১৮৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭৫৩টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক জানান, ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি থাকা আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় দাখিল করলে তা অনলাইনেই অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

পুরো প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল নয়

রাজউকের পারমিট ব্যবস্থা অনলাইনে হলেও পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণকালীন তদারকি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন ও কেপিআইডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থার অনাপত্তিপত্র অনেক ক্ষেত্রে এখনো ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়। ফলে রাজউকের নিজস্ব ব্যবস্থা অনলাইনে হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রক্রিয়ার কারণে সব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের ডিজিটাইজেশন শুরু হয়। পরে আটটি জোনে তা বিস্তৃত হয়। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ওয়ান উইন্ডো সেলের মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে আনা গেলে অনুমোদনের সময় ও জনভোগান্তি আরও কমবে বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box