শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও বাংলাদেশের সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করে এগুলোকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

২৪ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত Creative Footprints বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক ভাবনায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই নীতি ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকার বাজেটে এ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং বেসরকারি খাতও অর্থায়নে এগিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।

সৃজনশীল খাতের প্রসারে দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইনিং ও ব্র্যান্ডিং সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিপণন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, এতে প্রান্তিক শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের যথাযথ মূল্যায়ন ও নগদায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু শিল্প, কারুশিল্প বা ব্যবসার বিষয় নয়; বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ‘সফট পাওয়ার’। সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিশ্বে দেশের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box