শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাঙ্গামাটিতে আনন্দঘন পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত

রাঙ্গামাটির বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় আয়োজন ও বিশ্বশান্তির প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে আনন্দঘন পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক: রাঙ্গামাটিতে আনন্দঘন পরিবেশে নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। রোববার ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে সুখ, শান্তি ও বিশ্বমৈত্রীর প্রার্থনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস ব্রত পালনের পর প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়। অশুভ, অন্যায় ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সম্প্রীতির প্রত্যয়ে সকাল থেকেই ঐতিহাসিক রাজ বন বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বিহারে সব বয়সী পুণ্যার্থীর ভিড় দেখা যায়।

দিনটি উপলক্ষে রাজ বন বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান ও চিমিতং পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকারা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন।

ধর্মীয় দেশনায় রাজ বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো বলেন, প্রবারণা আত্মপর্যালোচনা, ত্যাগ ও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়। অশুভ চিন্তা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব দূর করে প্রজ্ঞার আলো জ্বালানো এবং সব জীবের মঙ্গল ও বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পুণ্যার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয় এক পুণ্যার্থী বলেন, তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। তিনি বিশ্বশান্তি এবং পাহাড়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য প্রার্থনা করেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিহারগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান।

বিকেলে আকাশে রঙিন ফানুস ওড়ানোর আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। উৎসবের পরদিন থেকে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে মাসব্যাপী ‘শুভ কঠিন চীবর দান’ শুরু হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box