
অনলাইন ডেস্ক: বাতিল হওয়া সরকারি প্লটের বরাদ্দ ২৮ বছর পর পুনরুজ্জীবন, বাংলাদেশ ব্যাংকে অস্তিত্ব না থাকা চালানকে বৈধ ধরে সনদ দেওয়া, ঘুষের টাকা কর্মচারীর মাধ্যমে গ্রহণ, নিয়োগ ছাড়াই লোক দিয়ে অফিসে কাজ করানো এবং সরকারি জায়গার দোকান ও স্থাপনা থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ—জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) মো. নাসির উদ্দিনকে ঘিরে উঠেছে এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
২০১১ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসেন নাসির উদ্দিন। অল্প সময়ের জন্য অন্যত্র দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চট্টগ্রামেই কর্মরত। ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি হয়েছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলায় তিনি কাগজে-কলমে পলাতক।
বর্তমানে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি একাধিক হাউজিং এস্টেট ও প্রকল্পসহ মোট ছয়টি দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম কার্যালয়ে প্লট ও ফ্ল্যাটের নামজারি, বরাদ্দ এবং সরকারি জমির ব্যবস্থাপনায় তার প্রভাব রয়েছে।
চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অফিস সহকারী হেলাল উদ্দিনের টাকা গোনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নামজারির কাজের জন্য ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং নাসির উদ্দিনের হয়ে হেলাল টাকা গ্রহণ করেন। হেলাল টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন, সেটি ঘুষ নয়; চালানের টাকা জমা দেওয়ার জন্য তিনি তা নিয়েছিলেন।
তবে সরকারি কর্মচারী হিসেবে অন্যের চালানের টাকা কেন জমা দিয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি হেলাল। টাকা প্রদানকারী জয়নালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
হালিশহর হাউজিং এস্টেটের প্রায় দেড় কোটি টাকা বাজারমূল্যের একটি বাণিজ্যিক প্লটের ১৯৯১ সালের বাতিল বরাদ্দ প্রায় ২৮ বছর পর পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়ায় নাসিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম কিস্তি পরিশোধের যে চালান দেখানো হয়েছিল, ২০২০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের যাচাইয়ে তার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। চালানটির তারিখ শুক্রবার হওয়ায় এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এরপর ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যমানের সরকারি সম্পত্তির বিপরীতে ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা পরিশোধের ভিত্তিতে দায়মুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। এ ঘটনায় ২০২২ সালে নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
জাগৃকের চট্টগ্রাম কার্যালয় ও কৈবল্যধাম হাউজিং এস্টেটে কয়েকজনকে নিয়োগ ছাড়াই কাজ করানো এবং তাদের বেতন-ভাতা নাসির বহন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বকলোনি এলাকায় জাগৃকের জায়গায় গড়ে ওঠা শতাধিক দোকান থেকে মাসে অন্তত তিন লাখ টাকা ভাড়া আদায় এবং পরিত্যক্ত ভবনে বসবাসকারী পরিবারগুলোর কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া নিজের ও বোনের নামে কক্সবাজারে ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নকশাবহির্ভূত ভবনের নামজারি নিয়ে আশ্বাস এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
নাসির উদ্দিন এসব অভিযোগের বেশির ভাগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জনবল সংকটের কারণে কয়েকজন অফিসে সহযোগিতা করেন, দোকান থেকে ভাড়া আদায়ের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং ফ্ল্যাট বরাদ্দে নিয়ম মানা হয়েছে। দুদকের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, প্লটটি বরাদ্দের সময় তিনি চাকরিতে ছিলেন না এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কেবল নির্ধারিত কিস্তির টাকা আদায় করেছেন।
সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, কাগজপত্রের জটিলতা, মালিকানাসংক্রান্ত সমস্যা, মামলা বা দ্বৈত বরাদ্দের কারণে কাজ বিলম্বিত হতে পারে।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলায় কোনো আসামিই জামিন নেননি এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। জাগৃক চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগগুলো সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: Daily Amader Matribhumi
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত