
অনলাইন ডেস্ক: মাদক পাচার ও এর অপব্যবহার রোধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ, আইনি সংস্কার, আধুনিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা সম্প্রসারণের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে এই নীতির অংশ হিসেবে বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সংশোধন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইনে মাদক পাচারের জন্য কঠোর শাস্তি, মাদক অপরাধে জড়িত সম্পদ বাজেয়াপ্ত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রয়োগক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে অনলাইনে মাদক পাচারের দায়ে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত মাদক অপরাধের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর কিছু মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৪৪ হাজার ২৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ৩০ হাজার ১৮৭ জন, যা মোট গ্রেফতারের প্রায় ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ।
এ সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ ৬ হাজার ২৮৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ৪ হাজার ২৫১ জন। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ২ হাজার ৪৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে; এর মধ্যে মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ৮০৮ জন।
সরকারের কৌশলের লক্ষ্য আন্তঃসীমান্ত পাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক পৃষ্ঠপোষক এবং মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরসহ পুরো সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক পাচার নেটওয়ার্কের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও বড় কারবারিদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রী জানান, মাদক ব্যবসার অর্থে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইনে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পাচারকারী গোষ্ঠীগুলো তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবহারের পাশাপাশি বেনামি সিমকার্ড, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড, হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক সরঞ্জাম, ডগ স্কোয়াড, উন্নত পরীক্ষাগার এবং গ্রেফতারের পর আটক আসামিদের জন্য উন্নত আটককেন্দ্রের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। রাসায়নিক পরীক্ষার নির্ভুলতা বাড়াতে ও জালিয়াতি ঠেকাতে দেশের প্রতিটি জেলায় উন্নত রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা ২৫০টিতে উন্নীত করার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানে চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।
তরুণদের মাদক অপব্যবহার থেকে দূরে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে পরিবার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত