
অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে আইনজীবী নিজেই ফেঁসে গেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম দাবি করেন, এক-দুই বছর আগেও ওই শিশু শিক্ষকের কাঁধে চড়ে তাঁর দাড়ি টেনেছে। সাংবাদিকেরা তখন প্রশ্ন করেন, ওই সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক ছিলেন কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘তখন ছিলেন না, পরে হয়তো আসছেন।’
রোববার ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শরিফুল আলমকে এসব কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওটির ওই অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওতে সাংবাদিকেরা জানতে চান, এক-দুই বছর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক না থাকলে শিশুটির তাঁর কাঁধে চড়ার দাবি কীভাবে করা হচ্ছে। জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘তখন ছিলেন না, পরে হয়তো আসছেন।’ এরপর তিনি বলেন, ‘কিন্তু খেলা করছেন এই শিক্ষকের সঙ্গে।’
এদিকে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই শিক্ষকের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।
২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
সূত্র: Daily Amader Matribhumi
সম্পাদক: মোঃ আহছানউল্যা হাসান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত