
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ ও জাপানের ভৌগোলিক দূরত্ব চার হাজার মাইলের বেশি এবং সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় বিস্তর পার্থক্য থাকলেও দুই দেশের জাতীয় পতাকায় থাকা লাল বৃত্তের সাদৃশ্য তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দুই দেশের পতাকার দৃশ্যত নকশা কাছাকাছি মনে হলেও এর রঙ ও প্রতীকের পেছনে রয়েছে নিজ নিজ জাতির ভিন্ন ইতিহাস। জাপানের পতাকাকে স্থানীয়ভাবে ‘হিনোমারু’ বলা হয়, যার অর্থ ‘সূর্যের বৃত্ত’। সাদা পটভূমি সততা, পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক; মাঝের লাল বৃত্ত উদীয়মান সূর্যকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের পতাকার গাঢ় সবুজ পটভূমি দেশের চিরসবুজ প্রকৃতি, তারুণ্য ও নবীন প্রাণশক্তির প্রতীক। এর লাল বৃত্ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী লাখো শহীদের রক্ত এবং স্বাধীনতার নতুন সূর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
নকশায় সূক্ষ্ম পার্থক্য
দুই পতাকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যামিতিক পার্থক্যও রয়েছে। জাপানের পতাকায় লাল বৃত্তটি একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে। বাংলাদেশের পতাকায় বৃত্তটি পতাকাদণ্ডের দিকে সামান্য সরানো। পতাকা বাতাসে ওড়ার সময় লাল বৃত্তটিকে দৃষ্টিগতভাবে মাঝখানে দেখানোর জন্য এই নকশা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে জাপানের পুনরুত্থান এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস দুই পতাকার প্রতীকে ভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাদের পতাকার এই সাদৃশ্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন