শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

‘রাজাকার স্বৈরাচারের গোপন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, খালেদা জিয়ার কারাবাস, তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল নিয়ে আলোচনা সভা হয়েছে।
‘রাজাকার স্বৈরাচারের গোপন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় রাজধানীর জামান টাওয়ারের ১৫তম তলায় জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিপস)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে ‘রাজাকার স্বৈরাচারের গোপন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ’ শীর্ষক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে আলোচনা

আলোচনায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কারাবাসের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে যান। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা ও কারামুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়।

বিএনপি তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য মামলাগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ

আলোচনায় তারেক রহমানের গ্রেপ্তার ও তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগও উঠে আসে। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি আদালতের কাছে নিরাপত্তা চান বলে জানানো হয়। বিএনপির নেতারা এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছিলেন।

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি পদক্ষেপ দলটির নেতৃত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার অংশ ছিল।

রাজনৈতিক ইতিহাস ও আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল

সভায় ১৯৯১ সালে বিএনপির সরকার গঠন, ১৯৯৬ সালের নির্বাচন, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়, ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। নির্বাচন বর্জন, আন্দোলন, মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ আসে।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার, নির্বাচনব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের অভিযোগের কথা আলোচনায় উঠে আসে। গুম, নির্যাতন, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া নিয়েও মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, প্রাণহানি, গ্রেপ্তার ও ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাপ্রবাহের কথাও সভায় বলা হয়। পরে আন্দোলনটি সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।

সভায় বলা হয়, ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box