শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

১৪ ডিসেম্বরের আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমির নবনির্মিত স্থাপনা উন্মুক্ত

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে রায়েরবাজার বধ্যভূমির নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারি উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
১৪ ডিসেম্বরের আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমির নবনির্মিত স্থাপনা উন্মুক্ত

অনলাইন ডেস্ক: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার রায়েরবাজার বধ্যভূমি পরিদর্শন শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করে স্থাপনাগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। পরিদর্শনকালে কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ করা দায়িত্ব। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত স্থাপনাগুলোর মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লাইব্রেরিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুযোগ থাকবে। আর্ট গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ ও বীরত্বগাথা তুলে ধরা হবে বলে জানান আহমেদ আজম খান।

পরিদর্শন শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থাপনাগুলোর কার্যকর ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ ও উন্নয়ন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে এসব অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ইন্টারকম, স্টেজ লাইটিং, পাম্প ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও অফিস কক্ষের জন্য আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. শাহজাহান মিয়া, যুগ্মসচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জেহাদ উদ্দিন, যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ সামছুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box