শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বিচারাধীন মামলার আসামি হয়েও সিডিএর গুরুত্বপূর্ণ পদে মোহাম্মদ হাসান

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও সাবেক অথরাইজড অফিসার-১ মোহাম্মদ হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
বিচারাধীন মামলার আসামি হয়েও সিডিএর গুরুত্বপূর্ণ পদে মোহাম্মদ হাসান

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও সাবেক অথরাইজড অফিসার-১ মোহাম্মদ হাসানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং ইমারত নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একাধিক মামলায় আসামি হয়ে বিচারাধীন থাকার পরও তিনি দীর্ঘদিন সিডিএর গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন; পরে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হন।

চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মোহাম্মদ হাসানের বিরুদ্ধে ৪০/২০১২, ৪১/২০১২ ও ৪৩/২০১২ নম্বর তিনটি বিশেষ দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে কালুরঘাট সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ১ কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৫২ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ২০১০ সালে চান্দগাঁও থানায় মামলা হয়। ২০১২ সালের মে মাসে তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, সিডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি যৌথ সিন্ডিকেট প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিল। চার্জশিটভুক্ত হওয়ার পর মোহাম্মদ হাসান জামিনে থেকে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে প্রশাসনিক সুবিধা পেতে থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাগুলো বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি সিডিএর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান এবং একপর্যায়ে ইমারত নকশা ও তলা অনুমোদনের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা অথরাইজড অফিসার-১ পদে বসেন। সিডিএর প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত তলা নির্মাণের বৈধতা, অননুমোদিত নকশা অনুমোদন এবং সংশোধিত প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেনের একটি সিন্ডিকেটের অভিযোগ হাসান ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক একক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় একটি মসজিদের বহুতল ভবনের অনুমোদনসংক্রান্ত ফাইল আটকে রাখা ও জটিলতা সৃষ্টির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অসন্তোষ তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর সিডিএ চাকরি প্রবিধানমালার ৪০(ঙ) ধারা প্রয়োগ করে সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমার স্বাক্ষরিত আদেশে মোহাম্মদ হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অথরাইজড অফিসার-১ পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী কাদের নেওয়াজকে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কালুরঘাট উন্নয়ন প্রকল্পের মামলায় সিডিএর তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীসহ একাধিক কর্মকর্তা চার্জশিটভুক্ত রয়েছেন। মোহাম্মদ হাসানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box