শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্ট চালুর বৈধতা পেতে এসপিএলের তদবির

অনুমোদন ছাড়া তৈরি এসপিএলের প্ল্যান্ট চালুর বৈধতা পেতে নতুন করে তদবিরের প্রেক্ষাপটে বিপিসি আপত্তি জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও উদ্যোগটির সমালোচনা করেছেন।
অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্ট চালুর বৈধতা পেতে এসপিএলের তদবির

অনলাইন ডেস্ক: অনুমোদন না থাকলেও সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি (এসপিএল) প্ল্যান্ট তৈরি করেছে এবং আবেদন একাধিকবার নাকচ হওয়ার পর এবার সেই স্থাপনা চালুর বৈধতা পেতে আবারও তৎপরতা শুরু করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে দফায় দফায় চিঠি দেওয়ার পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মতামত চেয়েছে। তবে বিপিসি বিষয়টিতে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞদেরও সমালোচনার মুখে পড়েছে এসপিএলের এই উদ্যোগ।

২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর অপরিশোধিত তেল আমদানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আবেদন করে এসপিএল। ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন নীতিমালা-২০৩’-এর অধীনে চূড়ান্ত অনুমোদন না থাকায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর আবেদনটি নাকচ করে।

এরপর ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি সচিবের কাছে পুনরায় আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্ষমতার পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানের রিফাইনারি স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। চলতি বছরের ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে পাঠানো চিঠিতে দৈনিক ৩৫ হাজার ব্যারেল ধারণক্ষমতার প্ল্যান্ট চালুর বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়।

এসব চিঠির ধারাবাহিকতায় গত ১৮ অক্টোবর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের স্বাক্ষরে বিপিসি চেয়ারম্যানের কাছে পুনর্মূল্যায়ন ও মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে এসপিএলের প্রথম আবেদন নাকচ করেছিলেন এই কর্মকর্তাই।

বিপিসির আপত্তি

মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়ার বিপরীতে বিপিসির অবস্থান নেতিবাচক। ৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর ৮ ফেব্রুয়ারি বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভার কার্যবিবরণীতে সরকারি ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ওই প্রকল্প চালু হলে সরকারের তেল শোধন সক্ষমতা তিন গুণ বাড়বে এবং এসপিএম প্রকল্পের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। তাই এই মুহূর্তে এসপিএলকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের সুযোগ দেওয়া যৌক্তিক নয় বলে মত দেন বিপিসির পরিচালকরা।

বিশেষজ্ঞের সমালোচনা

লাইসেন্স বা অনুমোদনের আগে এসপিএলের কাঠামোগত প্ল্যান্ট তৈরি করাকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলমের মতে, অনুমোদন ছাড়া প্ল্যান্ট নির্মাণ বড় অপরাধ এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র কোনোভাবেই এমন বেআইনি পদক্ষেপকে অনুমোদন দিতে পারে না।

জ্বালানি বিভাগের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও এসপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার ও সিইও প্রণব কুমার সাহার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিপিসির কয়েকজন কর্মকর্তা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিপিসির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box