শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি: উপমন্ত্রী

জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী ড. বারবেল কোফলার বলেছেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি: উপমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী ড. বারবেল কোফলার বলেছেন, জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেন তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে জার্মান পুনঃএকত্রীকরণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আয়োজনটি করেন জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ ও ইভানা লোৎজ।

কোফলার বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য রেখে উন্নয়ন এগিয়ে নিতে জার্মানি বাংলাদেশের সরকার ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে চায়। বাংলাদেশের সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে জার্মানির উন্নয়ন সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘গ্লোবাল শিল্ড এগেইনস্ট ক্লাইমেট রিস্কস’ উদ্যোগ, জলবায়ু অভিযোজন ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতাকে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন জার্মান উপমন্ত্রী। জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি।

কোফলার বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য ও খাদ্যনিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে। খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম বাংলাদেশের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং জার্মানিও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) শ্রেণি থেকে উত্তরণে অভিনন্দন জানিয়ে কোফলার বলেন, এ প্রক্রিয়া টেকসই করতে অর্থনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এলডিসি উত্তরণ, ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানসম্মত কর্মসংস্থান ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো সফররত কোফলার জানান, তিন দিনের সফরে তিনি নাগরিক সমাজ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ স্মরণে পালিত জার্মান ঐক্য দিবসকে শান্তি, সংহতি ও বিভাজন অতিক্রমের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন কোফলার। বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এসব মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে বলে জানান তিনি।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box