শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাবি শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা বুলবুলের বিরুদ্ধে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সভাপতিকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
রাবি শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা বুলবুলের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমানের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে।

বুলবুল রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকিরের উপস্থিতি ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাঁকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। এ কারণে তাঁকে পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগ।

ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন বুলবুল। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সভাপতি রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালাগাল ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বুলবুলের বিরুদ্ধে।

অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জনসমক্ষে তাঁর হাত ধরে টানাটানি ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তাঁকে হেনস্তা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, বুলবুল তাঁকে তৌকিরকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। নিয়ম না থাকায় তিনি তা সম্ভব নয় বলে জানান। এরপর বুলবুল তাঁকে গালাগাল ও নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং মুঠোফোন নিয়ে টানাটানি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক শহিদুলের দাবি, বিভাগের শিক্ষক পদে আবেদন করতে না পারাকে কেন্দ্র করেও বুলবুলের ক্ষোভ রয়েছে। তিনি জানান, প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু বিচার চান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুলবুল রহমান। তাঁর বক্তব্য, অসুস্থতার কারণে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা তাঁর ছোট ভাইয়ের হয়ে তিনি শুধু পরীক্ষায় বসার অনুরোধ করেছেন। হেনস্তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি উল্টো শিক্ষকের খারাপ আচরণের অভিযোগ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম জানান, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত; কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও সব তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি দেখে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box