শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের বহুমুখী সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে দুই দেশের আলোচনার কথা জানান তিনি।
সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক: সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর ২৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁর চলমান জাপান সফর দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শীর্ষ সম্মেলনকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই নেতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এই অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করা।

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার, জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ এবং প্রায় ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ বিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল, ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্তকারী দ্রুতগতির রেল এবং আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নেও জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশ যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোর আওতায় বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিগ-বি) উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সহযোগিতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আলোচনায় বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাবও ছিল। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মিয়ানমারে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনে টোকিওর ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে রয়েছেন তারেক রহমান। সফরের লক্ষ্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে দুই নেতা যৌথ বিবৃতি দেন এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box