শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশের

জাতিসংঘে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে মানবাধিকারকে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে মানবাধিকারকে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটি বলেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সমতা, মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কতটা অবদান রাখা যাচ্ছে, তার ভিত্তিতেও উন্নয়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এ আহ্বান জানান। ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইরিন খান বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি যাতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে ন্যায়সংগত করব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়ন, ঋণের স্থায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীভবন, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া এবং বৈষম্য বিস্তারের মতো বিষয়গুলো মানবাধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ঋণ পুনর্গঠনে সমতা, জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিক সমাজের অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় বলা হয়, সংঘাত, ঋণের অতিরিক্ত পরিশোধ ব্যয় এবং উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের স্থায়ী মিশনের যৌথ আয়োজনে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত ওমর হিলালে, উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসের, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত এমক্সোলিসি এনকোসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্তাভরোস লামব্রিনিদিস অংশ নেন।

এ ছাড়া মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও সাইস, অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আতিয়া ওয়ারিস আলোচনায় অংশ নেন।

সংলাপে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামো ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থায় মানবাধিকারের নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box