
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকায় আগামীকাল আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত চালু হচ্ছে। কাগজবিহীন বিচারিক কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু হতে যাওয়া আদালতটি হবে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত। এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলা দায়ের, শুনানিতে অংশগ্রহণ, সাক্ষ্য প্রদান ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য কাগজের নথিপত্রের ব্যবহার কমানো এবং আদালত বা আইনজীবীর চেম্বারে বিচারপ্রার্থীদের সশরীরে উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা। মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাওয়া ও বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় পারিবারিক বিচারিক সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সরকার গত বছরের শেষ দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একটি করে দুটি ই-পারিবারিক আদালত চালু করে। ওই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ঢাকায় আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত চালুর পাশাপাশি দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ঢাকার ই-পারিবারিক আদালত ৫-এ এখন পর্যন্ত ১৬৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর দায়ের করা দুটি মামলাও রয়েছে। এসব মামলার ৩৬টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থীরা প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ৭ থেকে ১০ দিন অপেক্ষা না করে সামান্য ফি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি পেতে পারছেন। ফি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে এবং ডিজিটাল অনুলিপিতে থাকা কিউআর কোডের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করা যাচ্ছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় চারজন বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের এক হাজারের বেশি আইনজীবীকেও ই-পারিবারিক আদালত পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, মামলা দায়ের থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের বারবার আদালত বা আইনজীবীর কাছে যেতে হবে না। নিবন্ধন করে সুরক্ষিত পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লগইন করে অনলাইনে মামলা দায়ের করা যাবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সিস্টেমে লগইন করার পর বিচারপ্রার্থীরা নিজেদের ড্যাশবোর্ডে মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। হাতে লিখে নথি তৈরি ও কাগজের নথি সংরক্ষণের প্রয়োজন না থাকায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমবে বলেও তিনি জানান।
স্মার্টফোন নেই বা পড়তে-লিখতে পারেন না—এমন বিচারপ্রার্থীরা সরকারি আইনি সহায়তা সেবার মাধ্যমে আইনজীবীদের সহযোগিতা নিতে পারবেন। নারী ও শিশুসহ বিচারপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আদালতগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রথমবারের মতো ইন্টার্ন নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন