শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ চিকিৎসক রমজান আলীর বিরুদ্ধে

শেবাচিম হাসপাতালে নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা না করায় এক নারী রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও রিপোর্ট না দেখে ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে।
শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ চিকিৎসক রমজান আলীর বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে পরীক্ষা না করানোর কারণে এক নারী রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা এবং অন্য জায়গা থেকে করানো পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া এক সংবাদকর্মীর সঙ্গেও চিকিৎসক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের একাধিক অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার নাজমা বেগমের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে তিনি তীব্র মাথাব্যথায় ভুগছেন। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় ডা. রমজান আলীকে দেখানোর জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।

নাজমার দাবি, চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে পরীক্ষাগুলো করাতে বলেন। অতিরিক্ত খরচ এড়াতে তিনি ‘সায়েন্স ল্যাব’ থেকে কম খরচে পরীক্ষা করান। পরে রিপোর্ট নিয়ে গেলে কেন পছন্দের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করানো হয়নি—এ নিয়ে চিকিৎসক তাঁকে বকাঝকা করেন এবং রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবাদ করলে চিকিৎসকের সহযোগীরা তাঁকে জোর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন বলেও জানান নাজমা।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, এর আগেও তাঁকে একইভাবে নির্দিষ্ট ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছিল। তাঁর দাবি, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে থাকা কয়েকজন নারী সহযোগী রোগীদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষার জন্য পাঠান এবং সেখানে পরীক্ষা না করালে দুর্ব্যবহার করা হয়।

সংবাদকর্মীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

রোগীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে গেলে এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে ডা. রমজান আলী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কক্ষে প্রবেশের বিষয়টি তুলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং কক্ষে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

এ সময় অন্য রোগীরাও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, দালাল ও নির্দিষ্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে হাসপাতালে একটি চক্র কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে জানা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

পরিচালক ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান চলছে। কোনো অনিয়ম বা অপরাধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box