
অনলাইন ডেস্ক: ঝিনাইদহ, ২৯ অক্টোবর ২০২৬: জেলার সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চঞ্চল (৫০) শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার বাসিন্দা।
ঝিনাইদহ সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার হোসেন মিনা জানান, সুলতান আহমেদের পুলিশ লাইনের সামনে একটি গ্রীলের দোকান ছিল। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারি কাজের কিছু টাকা চঞ্চলের কাছে পাওনা ছিল সুলতানের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর জেরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে সুলতানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকে চঞ্চল পলাতক ছিলেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ জুন চঞ্চল ও জাহাঙ্গীর আলমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
আসামিরা উচ্চ আদালতে মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করলে আদালত তা স্থগিতের আদেশ দেন। গত মাসে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
পুলিশ পরিদর্শক আখতার হোসেন মিনা বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে আশুলিয়ার কাঠগড়ার আলম মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে তিনি নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস নামে ব্যবসা করছিলেন বলে জানান তিনি।
মামলার অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা যান। মামলার তদন্ত চলছে। নতুন কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক। গ্রেফতার চঞ্চলকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন