শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

গণপূর্তের আরবরিকালচার উপবিভাগ-২-এর কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, শ্রমিকের মজুরি কম দেওয়া, ফল বিক্রির অর্থে অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার সবুজায়ন দেখভালের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরবরিকালচার উপবিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দিনমজুরের মজুরি কম প্রদান, পার্কের ফল বিক্রির অর্থের হিসাব নয়ছয় এবং আওতাধীন এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগগুলোর তদন্তের দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধান আরবরিকালচারিস্টের একটি পদকে কেন্দ্র করে মোয়াজ্জেম হোসেন ও শেখ মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এ বিরোধের পর শেখ মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদাকে পদ থেকে সরিয়ে রিজার্ভে রাখা হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে প্রধান বৃক্ষপালনবিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর একটি মামলায় মোয়াজ্জেম হোসেন আবেদনকারী ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ১৬ মে দেওয়া একটি আদেশের বিরুদ্ধে শেখ মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (১২৫/২০২৫) করেন।

দাপ্তরিক রেকর্ড অনুযায়ী, আরবরিকালচার বিভাগে বছরে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ থাকে। এই বিভাগের উপবিভাগ-২-এ দায়িত্ব পালনের সময় ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তিন মাসে ৬ হাজার ৯৫৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা না দেওয়ায় বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গভবন, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পদায়ন না করার সুপারিশ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশ ব্যবহার করে মোয়াজ্জেম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা পানির পাম্পের কাছে তিনি পাঁচ কাঠা জমি কিনেছেন; তবে এই সম্পদের সঙ্গে অনিয়মের অর্থের সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা সূত্রে উল্লেখ নেই।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দায়িত্ব থেকে সরানোর পর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনসংলগ্ন কাজে নিয়োজিত দিনমজুর মনির অভিযোগ করেন, ১৮০ জন দৈনিকভিত্তিক শ্রমিককে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মোয়াজ্জেমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

তার দায়িত্বাধীন পার্কে থাকা প্রায় ২৪৫টি নারিকেল ও ১৪৫টি কাঁঠালগাছের ফল উন্মুক্ত নিলামে বিক্রির বিধান থাকলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে। একই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের চাপ, দর্শনার্থীদের জোর করে ছবি তুলে অর্থ দাবি এবং নিরাপত্তাকর্মী ও তদারককারীদের অর্থ দিয়ে এসব কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

অফিস সময় না মানা, নিয়মবহির্ভূতভাবে চিঠি পাঠানো ও অসদাচরণের অভিযোগে এর আগেও তার বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব ও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের শেরাটন হোটেল শাখার দায়ের করা অর্থঋণ মামলা নম্বর ১০/২০১০-এ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৩১ টাকা অনাদায়ি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

সারওয়ার জাহান জানান, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিকবার অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে এবং এবারের অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মোয়াজ্জেমের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পার্কের সুপারভাইজার ফজলুল হক জানান, পুরোনো কার্যালয় ভেঙে ফেলায় কর্মকর্তার বসার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। মোয়াজ্জেমের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো বক্তব্য বা সাড়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box