শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে বাজারে প্রবেশাধিকার, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব জোরদারের কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক: বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের দূতাবাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সম্পর্কের আরও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক সংহতি ও ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমুখী করার অভিন্ন অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তুরস্কের সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি বাংলাদেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে তুরস্ক তার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করছে। তাঁর ভাষ্য, ঢাকা-ইস্তাম্বুলের মধ্যে সরাসরি যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান চলাচল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনের বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি এ বছরের ৫ ও ৬ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের কথাও স্মরণ করেন।

রামিস সেন জানান, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পরবর্তী বৈঠক ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box