
অনলাইন ডেস্ক: রাঙামাটি, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ (বাসস): সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে শোভা পাচ্ছে সোনালি পাকা ধান। পাকা ধানের পাশাপাশি রয়েছে জুমের সাথি ফসলের সমাহার। জুম ধান কেটে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে জুমিয়ারা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মানুষের প্রাচীনতম পেশাগুলোর একটি জুম চাষ। তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে সনাতন পদ্ধতিতে জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এ কারণে তাদের জুমিয়া বলা হয়।
পাহাড়ের ঢালে ফসল চাষের এই পদ্ধতিকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘জুম’, ত্রিপুরা ভাষায় ‘হুঁ’, মারমা ভাষায় ‘ইয়া’, পাংখোয়া ও লুসাই ভাষায় ‘ইকপ্রা’, খেয়াং ভাষায় ‘লউ’ এবং খুমি ভাষায় ‘ল’ বলা হয়। তবে অন্যান্য ভাষাভাষীদের কাছে এটি জুম চাষ নামেই পরিচিত।
জুম চাষের পদ্ধতি
রাঙামাটির আসাম বস্তি-কাপ্তাই-মোরঘোনা সড়কের পাশের জুম চাষি ননা চাকমা বলেন, প্রথমে পাহাড়ের ঢালে চাষের উপযোগী জমি নির্বাচন করা হয়। পরে জঙ্গল পরিষ্কার করে তা এক মাসের বেশি সময় রোদে শুকানো হয় এবং আগুনে পোড়ানো হয়। চৈত্রের শেষ থেকে বৈশাখের শুরু পর্যন্ত জমির আগাছা পরিষ্কার করে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপন করা হয়।
বরাদম এলাকার জুম চাষি আনন্দ চাকমা বলেন, ধানের পাশাপাশি কলা, ভুট্টা, মারফা, মরিচ, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল, আদা, মিষ্টি কুমড়া, তুলা ও তিলসহ বিভিন্ন সাথি ফসল চাষ করা হয়।
পাহাড়ে হরিণ বিনি, পাধাতটারা, আমেই, কালা কবরক, লঙ লঙ, মেলে (কুকী), কামারাঙ, তোর্গী, বাধেইয়া, কবরক, লেঙদাচিকন, গেলঙ, পাত্তেগী, গুরি, বিনি, কবাবিনি ও লোবাবিনিসহ বিভিন্ন জাতের জুম ধান চাষ হয়।
আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে জুমের ধান পাকা শুরু হয় এবং ভাদ্র-আশ্বিন থেকে তা ঘরে তোলা হয়। জুম চাষিরা জানান, এ বছর পোকামাকড়ের উপদ্রব না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাইসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়জুড়ে জুমের সোনালি ফসল দেখা যাচ্ছে।
৫ হাজার হেক্টরে জুম চাষ
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুম চাষ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার মেট্রিক টন এবং অন্যান্য সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে।
তিনি পাহাড়ের একই জমিতে বারবার জুম চাষ না করার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, ঘনঘন জুম চাষে সামগ্রিক ফলন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে জুম চাষের আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন