
অনলাইন ডেস্ক: সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির ৩৮ লাখ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। মাঠপর্যায়ে পাঠানো ১৭ লাখ এবং প্রেসের গুদামে থাকা ২১ লাখ বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা বা ফর্মা পরিবর্তন করে পুনরায় ছাপানো ও বাঁধাইয়ের পর আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের জ্ঞানের পিরামিডে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের পর সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশোধিত সংস্করণে বিতর্কিত পৃষ্ঠায় কোনো প্রতীক রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।
বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মওলা বলেন, মাঠপর্যায়ে পাঠানো বই ফেরত এনে দ্রুত সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রেস মালিকরা নিজেদের দায়িত্বে পুনর্মুদ্রণ ও পাঠানোর ব্যয় বহন করবেন, ফলে সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ খরচ হবে না।
বিষয়টি কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখতে কারিকুলামসংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো বিষয় ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
প্রাথমিক স্তরের বইয়ে নৌকার ছবি বা রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, এবারের বইয়ে তথ্য, তত্ত্ব, বাক্য ও বানান সংশোধনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; ইলাস্ট্রেশনে পরিবর্তন করা হয়নি। ২০২৭ সালের বইয়ে নৌকার ছবি নতুন করে যুক্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। ২০২৮ সালের নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের সময় এসব বিষয়ে ব্যাপক পরিমার্জন করা হবে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের মুদ্রণ ও বাঁধাই প্রায় শেষ পর্যায়ে, আর ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে মুদ্রণের অগ্রগতি ৫৮ শতাংশের বেশি। মানদণ্ড পূরণ না করায় সাড়ে ৯ লাখ নিম্নমানের ফর্মা ও প্রায় ১২ হাজার বই বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন