শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে বিপ্লব ঘটিয়েছে বিনা

পরমাণু প্রযুক্তি ও মিউটেশন ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ২২টি ফসলের ১৩৯টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে বিপ্লব ঘটিয়েছে বিনা

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ২২টি ফসলের ১৩৯টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে, যার মধ্যে ৯৬টি জাত সরাসরি মিউটেশন ব্রিডিং বা বিকিরণ প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত।

বিনা এ পর্যন্ত ১০টি জীবাণুসার ও ৫৭টি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং বা গামা রশ্মি, এক্স-রশ্মি ও আয়ন বিমের মতো পরমাণু বিকিরণ প্রয়োগ করে উদ্ভিদের জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন জাত ও প্রযুক্তি তৈরি করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শরীফুল হক ভুঁইয়া বলেন, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে বিনা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

বিনার কর্মকর্তারা জানান, ধান, পাট, গম, ডাল, তেলবীজ, সবজি ও মসলা জাতীয় ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জীবাণুসারের মধ্যে ছোলা, মসুর, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মাষকলাই, বরবটি ও ধৈঞ্চার সার তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব সার ব্যবহারে সয়াবিনের ফলন ৭৫ থেকে ১৫০ ভাগ এবং ডাল ও শিমজাতীয় শস্যের ফলন ২০ থেকে ৪৫ ভাগ পর্যন্ত বাড়ে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিনার উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে বিনাধান-১৪। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে ৮ থেকে ১২ বছর সময় লাগলেও আয়ন বিম প্রযুক্তিতে মাত্র চার বছরে এই স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। উপকূলীয় লবণাক্ত মাটি ও বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য বিনাধান-১০ ও বিনাধান-২৩সহ বিশেষ জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এসব জাতের ফলে উপকূলের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ভাগ পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে। ধানের পাশাপাশি বিনা সরিষা, বিনা মুগ, বিনা মসুর, বিনা সয়াবিন, বিনা টমেটো ও বিনা চিনাবাদামসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিনা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো, লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরি করেছে। দেশীয় ফসলের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনের মাধ্যমে খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, রোগবালাই ও পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত তৈরির কাজও চলছে।

বিনার বিজ্ঞানীরা গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩১টি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয়ভাবে ২২টি এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৯টি পুরস্কার ও সম্মাননা রয়েছে। স্বাধীনতা পদক-২০১৯, জাতীয় কৃষি পুরস্কার, জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৬ এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ‘আইডিবি প্রাইজ ২০১৬ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি’ উল্লেখযোগ্য।

বিনার মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান বলেন, পারমাণবিক কৌশল ও বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাত উদ্ভাবন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে বিনা বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box