নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ভারতে অবস্থানরত গ্রেপ্তার তিন আসামিকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হাদি হত্যা মামলার তিন আসামিকে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতের আদালতে প্রয়োজনীয় মামলা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ভারত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।তিনি বলেন, “আমরা এখন তাদের ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মামলার অসমাপ্ত তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিটও দাখিল করা হবে।”এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছে। গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হলেও বাংলাদেশ সরকার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সব কাগজপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।তিনি আরও বলেন, “বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে এখনো আরব আমিরাত সরকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে আমরা আশাবাদী, এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।”সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ (পুশইন) করতে দেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, “ভারতে যদি কোনো বাংলাদেশি অবস্থান করে থাকেন, তাহলে কূটনৈতিক মাধ্যমে তাদের তালিকা পাঠানোর জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। নাগরিকত্ব যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





মন্তব্য করুন