অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে নতুন কৌশলে মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সম্প্রতি কয়েকজন নতুন ব্যক্তি পর্দার আড়াল থেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত এবং ভোর পর্যন্ত ক্যাম্পের বিভিন্ন গলি ও সড়কে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, আইসসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রির কার্যক্রম চলে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন কথিত গডফাদারের নেতৃত্বে শতাধিক সহযোগী প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করে থাকে।
শনিবার রাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, ক্যাম্পের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা চলে আসছে। তাদের দাবি, বর্তমানে নতুন কিছু ব্যক্তি এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং আগের কয়েকজনের পাশাপাশি তারাও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্পের আশপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল থাকলেও মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দফায় অভিযান পরিচালিত হলেও এলাকাটিতে মাদক ব্যবসা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের মতে, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, যার ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন বলেন, জেনেভা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, অভিযানে ইতোমধ্যে অনেক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা এখনও পলাতক রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নতুন সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্পে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর-তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছেন। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।
এদিকে পুলিশ বলছে, মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা।





মন্তব্য করুন