শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ভারী বর্ষণে পানির নিচে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, চরম ভোগান্তিতে স্বজনরা”

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের বড় একটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় কবরের সারি, নামফলক ও চলাচলের পথ ডুবে যাওয়ায় প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা।শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৬৫ একর আয়তনের এই কবরস্থানের পূর্ব পাশের অধিকাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। অনেক কবরের নামফলক পানির নিচে চলে গেছে, কোথাও কোথাও কবরের সীমানাও আর বোঝার উপায় নেই। ফলে দর্শনার্থীরা কবরের কাছে পৌঁছাতে না পেরে দূর থেকেই দোয়া করে ফিরে যাচ্ছেন।স্বজনদের অভিযোগ, কবরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেও প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘদিনেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগে মাটি ভরাট করে এই অংশে কবরস্থান গড়ে তোলা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে মাটির উচ্চতা কমে যাওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু অংশ তুলনামূলক উঁচু থাকলেও পূর্ব পাশের অধিকাংশ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।কবরস্থান সংশ্লিষ্ট রফিকুল ইসলাম জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও সেটি পুরোপুরি কার্যকর নয়। সম্প্রতি নতুন সংযোগের কাজ করা হলেও বিদ্যমান ড্রেনগুলো সম্পূর্ণ পরিষ্কার না থাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত মাটি ভরাট এবং নিচু এলাকাগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধি করা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।সরেজমিনে দেখা গেছে, কবরস্থানের বিভিন্ন স্থানে কর্দমাক্ত পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার কারণে মৃতদের শেষ শয্যাগুলোও অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বজনদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক মাটি ভরাট নয়, বরং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box