শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সুনামগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকারি সম্পদ অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

জানা গেছে, উপজেলার বাসিন্দা মো. সাইফুর রহমান সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া তিনটি সরকারি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি প্রধান শিক্ষকের মালিকানাধীন একটি কম্পিউটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অতীতে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৭ বছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বরাদ্দ এলেও বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন খুবই সীমিত।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, তিনি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রমে বেশি সময় ব্যয় করেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সহকারী শিক্ষকদের কার্যক্রমও যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতীতে প্রধান শিক্ষক একাধিকবার অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্য বিদ্যালয়ের পরিদর্শন রেজিস্টারেও লিপিবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের তিনটি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানেই থাকে। একটি বাসায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি এনজিওর কার্যক্রমে সময় দিতে হয়।”

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল হক মোল্লা বলেন, “জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জমা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনো আমাদের দপ্তরে অভিযোগের কপি পৌঁছায়নি। অভিযোগ হাতে পেলেই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box