শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরে আরেক ভূমি কর্মকর্তার ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরে আরেক ভূমি কর্মকর্তার ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরে ভূমি অফিসে ঘুষের ভিডিও একের পর এক ছড়িয়ে পড়ছে। বোয়ালমারী উপজেলার এক ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার এক দিনের ব্যবধানে এবার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলার ভূমি প্রশাসনে দুর্নীতি ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২২ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, সরোয়ার হোসেন তার ব্যক্তিগত কক্ষে বসে একজনের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। টাকা গুনে পকেটে রাখার পর নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন। এসময় ঘুষদাতাকে এক মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

ভিডিওতে ঘুষদাতাকে বলতে শোনা যায়, “টাকাগুলো গুনা দেন।” জবাবে কর্মকর্তা বলেন, “কম দেওয়ার বিষয় না, কাজ হলো আপনার, টাকাও আপনার; আমার কি।” পরে তিনি আরও বলেন, “চেষ্টা করব আরও আগে করে দেওয়ার, কিন্তু টাইম এক মাস।”

ভিডিওটি নিয়ে কথা বলতে গেলে ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি সম্পাদনা (এডিট) করা হয়েছে।

তবে কীভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, “সব মিথ্যা কথা। এ ধরনের কার্যক্রম আমার অফিসে হয় না।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্য বলেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, একটি ব্যক্তিগত কাজে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সরকারি রসিদে ৬ হাজার ৬০০ টাকা লেখা হয়েছিল। পরে এক হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে রবিবার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তিনিও দাবি করেছিলেন, টাকা নেওয়ার ভিডিওটি ধার নেওয়া টাকা ফেরত দিতে এসেছিলেন তার এক আত্মীয়। তবে ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই জেলার দুই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় ভূমি অফিসের সেবাপদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারি, খারিজ, জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ভূমি অফিসে দালালচক্র ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box