শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ও ছেলের বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ

সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ও ছেলের বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ

বন অধিদপ্তরে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, তার ছেলে জাকির হোসেন জুমন এবং সাবেক প্রধান বনসংরক্ষক (সিসিএফ) আমির হোসাইন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে সম্প্রতি প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ, বদলি এবং পদায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আখতারুল ইসলাম অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাবেক বনমন্ত্রী, তার ছেলে এবং সাবেক প্রধান বনসংরক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে শাহাব উদ্দিনের প্রভাব ব্যবহার করে বন অধিদপ্তরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ ও বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক প্রধান বনসংরক্ষক আমির হোসাইনের দায়িত্বকালীন বিভিন্ন রেঞ্জ ও বন চেকপোস্টে কর্মকর্তাদের পদায়নের অফিস আদেশ, পূর্বের বদলির নথি, বন বিভাগের বদলি নীতিমালা এবং দুই বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়েছে দুদক।

এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন বন বিভাগ, সদর রেঞ্জ এবং ফরেস্ট চেক স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদায়নসংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, তার ছেলে জাকির হোসেন জুমন এবং সাবেক প্রধান বনসংরক্ষক আমির হোসাইনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি অভিযোগ কমিশনের হাতে এসেছে। অধিকাংশ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। কিছু ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বাকি অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আমাদের মাতৃভূমি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box