শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাজউকের মহাখালী জোনে ঘুষের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া

রাজউকের মহাখালী জোনে ঘুষের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মহাখালী জোনে ঘুষ ও অনিয়মের একটি কথিত সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া—এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্মাণকাজের অনুমোদন, নকশা, ফাইল নিষ্পত্তি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের একটি অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মহাখালী জোনে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, রাজউকের মহাখালী জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রমে এক শ্রেণির পরিদর্শকের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো ভবনে ত্রুটি বা নকশার বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের জোনাল অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয় বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

তাদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ দিতে রাজি না হলে ফাইল আটকে রাখা, নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া কিংবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতে প্রমাণিত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, মহাখালী জোনে কথিত এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি পরিচালকের অজ্ঞাতসারে হওয়ার কথা নয়। বরং প্রশাসনিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার আরেকটি কারণ হিসেবে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারির একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছেন অভিযোগকারীরা।

তাদের দাবি, ওই দিন রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শক মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ কক্ষে এক সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকার কথাও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ঘটনার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি গুরুত্বহীনভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে ওই ঘটনায় পরিচালকের সরাসরি ভূমিকা বা কোনো অপরাধে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা

রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ ও বারসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর যাতায়াত নিয়ে নানা কথা বলা হলেও এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অভিযোগের চেয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের জোনাল কার্যক্রমে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, মহাখালী জোনে গত কয়েক বছরে অনুমোদিত ভবনের নকশা, নিষ্পত্তি হওয়া ফাইল, পরিদর্শন প্রতিবেদন, অভিযোগের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের নথি যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আদায়ে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box