
অনলাইন ডেস্ক: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নেওয়া ২০টি উদ্যোগের মধ্যে সাতটি বাস্তবায়ন হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও খাত থেকে সম্ভাব্য ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের একটি পাইপলাইন তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ গত ১৬ মার্চ উদ্যোগগুলো ঘোষণা করে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাস্তবায়িত উদ্যোগ
বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম, সমন্বিত বিনিয়োগসেবা এবং বিদেশি বিনিয়োগে নতুন প্রণোদনা।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে ৭০০টির বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ বাড়বে।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এগিয়েছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে; ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হতে পারে। প্রকল্পটির বিনিয়োগ পাইপলাইনের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সক্রিয় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালুর ফলে কাস্টমস ছাড়পত্র ও ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এতে পণ্য খালাসের সময় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগ সহায়তা, জমি, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ বিষয়ে সমন্বিত সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন হওয়াকেও বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে; ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা থাকবে।
ব্যবসায়ী সংলাপে অগ্রগতি
প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রথম দুই দফা সংলাপে ২৮টি সমস্যা উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে ২১টি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা উত্থাপিত সমস্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচির নির্দেশিকাও অনুমোদিত হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় দেশে আনা বিদেশি বিনিয়োগের ইক্যুইটির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ প্রণোদনা দেওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাইপলাইনে সম্ভাব্য বিনিয়োগ
ইনভেস্ট বাংলাদেশের তৈরি ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে চীন থেকে ৬০ কোটি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রায় ৩০ কোটি ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে ২০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাকি ১৩টি উদ্যোগ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, পিপিপি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, বাংলাবিজ বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এটি চালু হলে বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টনে দাঁড়াবে এবং ৬ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে।
নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে এফডিআই হিটম্যাপে উন্নতমানের বস্ত্র, ওষুধশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)





মন্তব্য করুন