শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শারমিন গ্রুপের এমডি ইসমাইল ও ছেলে শারাফের বিরুদ্ধে মামলা

শারমিন গ্রুপের সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. ইসমাইল হোসেন, তাঁর ছেলে শারাফ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হয়েছে।
শারমিন গ্রুপের এমডি ইসমাইল ও ছেলে শারাফের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান শারমিন গ্রুপের আটতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) নামের এক সিনিয়র মার্চেন্ডাইজারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় শারমিন গ্রুপের এমডি মো. ইসমাইল হোসেনকে প্রধান আসামি এবং তাঁর ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারাফ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর থানার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে কারখানার বহুতল ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবার শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে আসছে। মামলার বাদী ইস্কান্দার আলীর দাবি, তাঁরা প্রথমে হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলেন; তবে পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা ছাড়া অভিযোগ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে থানার সামনে অবস্থান এবং গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর প্ররোচনার মামলা নথিভুক্ত হয়।

ইস্কান্দার আলী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থলে জামাল উদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং সবার সামনে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, এতে জামাল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

নিহতের স্ত্রী সাবিকুন নাহার জানান, ঘটনার আগের রাতে ফোনে জামাল অফিসের ঝামেলা ও তাঁকে কোনো বিষয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। বুধবার সকালে অফিসে পৌঁছেও তিনি স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর কারখানার এক ব্যক্তি ফোন ধরে জামাল অসুস্থ জানিয়ে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ দেখতে পান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সকাল আটটায় কর্মস্থলে প্রবেশের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সাড়ে নয়টার দিকে পরিবারের কাছে জামালের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর খবর আসে। আসামিদের দুর্ব্যবহার, অবমাননা ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box