শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা সদর উপজেলায় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগে অনিয়ম, কমিশন দাবি ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
কুমিল্লা সদর উপজেলায় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন, টিসিবির আবেদন তদন্তে অর্থ আদায়, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সরকারি অর্থ বণ্টনে কমিশন দাবি এবং অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কুমিল্লা টাউন হল এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা ও তাতে নিয়মিত অংশগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণের জন্য ছয়টি ইউনিয়ন থেকে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৪৩ জন গ্রাম পুলিশকে জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা করে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মোট পরিমাণ ৬০ হাজার ২০০ টাকা। ফলে অবশিষ্ট ৪ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর করের এক শতাংশ খাত থেকে ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বণ্টনের প্রক্রিয়ায় চার শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১৬০টি টিসিবির আবেদন তদন্তের সময় আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

চাকরি, বদলি ও দাপ্তরিক আচরণ নিয়ে অভিযোগ

অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মো. আমির হোসেন সোহাগ ২০১২ সালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনে চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০১৭ সালে কুমিল্লার ঠিকানা ব্যবহার করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনে বদলি হয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত ঠিকানা ও বদলিসংক্রান্ত নথির তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সোহাগের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং নিয়মিত দাপ্তরিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, তিনি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে অবস্থান করেন এবং পরদিন দুপুরের দিকে অফিসে আসেন।

ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, কুমিল্লা টাউন হল এলাকার কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জুয়ার আসর পরিচালিত হয়। ওই আসর থেকে সোহাগ প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পান এবং সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজেও জুয়া খেলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্লাবের ভেতরে তাঁর জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগ ও জন্মনিবন্ধন নিয়ে অভিযোগ

উপজেলা পরিষদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রানী হরিজনের মেয়ে রাশিকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে উপজেলা পরিষদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। সোহাগের তদবিরে নিয়োগটি সম্পন্ন হয় এবং মাসিক বেতন ১৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও বয়স সংশোধনের কাজকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, হিসাব সহকারী ও উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এসব লেনদেন পরিচালিত হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার বলেন, অভিযোগগুলো তাঁর উপজেলা কার্যালয়ে যোগদানের আগের সময়ের। তিনি যোগদানের পর স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে মো. আমির হোসেন সোহাগের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর চাকরির নথি, বদলির আদেশ, টিসিবির আবেদন তদন্তের তথ্য, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের বৈধতা, সম্পত্তি হস্তান্তর করের অর্থ বণ্টন, প্রশিক্ষণের অর্থের হিসাব, জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন এবং দাপ্তরিক উপস্থিতির নথি যাচাই প্রয়োজন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

সূত্র: Daily Amader Matribhumi

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box