শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় ৮ কোটিরও বেশি খতিয়ান, সহজ হচ্ছে ভূমিসেবা

দেশে আট কোটির বেশি খতিয়ান ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে জমির রেকর্ড সংগ্রহ, খতিয়ান যাচাই ও অনলাইন ভূমিসেবা গ্রহণ সহজ হচ্ছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় ৮ কোটিরও বেশি খতিয়ান, সহজ হচ্ছে ভূমিসেবা

অনলাইন ডেস্ক: দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে জমির রেকর্ড সংগ্রহ, খতিয়ান যাচাই এবং ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণ সহজ হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রেকর্ড রুমের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত আট কোটির বেশি খতিয়ান বা পর্চা ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এর ফলে জমির রেকর্ড সংগ্রহে ভূমি অফিসে বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমছে। একই সঙ্গে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সহজে ভূমিসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ হাসান জানিয়েছেন, দেশের সব খতিয়ান সরকারি ব্যবস্থায় অনলাইনে আপলোডের লক্ষ্যে ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহায়তায় ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য একটি ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হলে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সব খতিয়ান অনলাইনে পাওয়া গেলে জমি নিয়ে বিরোধ কমতে পারে। নাগরিকেরা ঘরে বসে জমির রেকর্ড অনুসন্ধান এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে যাতায়াত খরচ, কর্মঘণ্টার অপচয় ও মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরশীলতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

ই-নামজারি ও অনলাইন ভূমিসেবা

ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে ই-নামজারি চালু হয়েছে। ৫১৬টি উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিস এবং ৩ হাজার ৪৬৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ কার্যক্রম চলছে। অনলাইনে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ লাখ নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

অনলাইন সার্ভে খতিয়ানের ডাটাবেজে প্রায় পাঁচ কোটি ১২ লাখ থেকে পাঁচ কোটি ১৩ লাখ খতিয়ান রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় পাঁচ কোটি ১২ লাখ খতিয়ান অনলাইনে উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ই-নামজারি ও অন্যান্য ভূমিসেবা ডিজিটাল হওয়ায় ডাটাবেজে রেকর্ডের সংখ্যা বেড়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কোটি ৭০ লাখ হোল্ডিংয়ের তথ্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং প্রায় এক কোটি ১০ লাখ অনলাইন দাখিলা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ই-পর্চার মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে।

ডিজিটাল খতিয়ানে জমির দাগ নম্বর, রেকর্ডভুক্ত মালিকের নাম ও জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া সহজ হচ্ছে। একইভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির রেকর্ড খোঁজা, পুরোনো দলিলের সঙ্গে খতিয়ান মিলিয়ে দেখা এবং নামজারির প্রস্তুতিও সহজ হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রত্যাশিত সুফল নিশ্চিত করতে ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম, তথ্যের নিরাপত্তা, সহজ ব্যবহারব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তথ্য খুঁজে পাওয়া, ভুল সংশোধন বা আবেদনের অগ্রগতি জানার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে ডিজিটাল সেবার সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

সারাদেশে ১ হাজার ৩৩০টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ১৫০টি সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে ভূমি জরিপ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে জমিসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেছেন, ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। সব খতিয়ান পর্যায়ক্রমে অনলাইনে আনা গেলে নাগরিকেরা ঘরে বসে জমির রেকর্ড সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারবেন। তিনি তথ্যের নির্ভুলতা, নিয়মিত হালনাগাদ, নিরাপত্তা, পুরোনো রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নাগরিকের অভিযোগ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box