ঢাকা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) অধীনস্ত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মো সরোয়ার হোসেন। সবশেষ তিনি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে ময়মনসিংহ ভ্যাট কমিশনারেটে বদলি করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে তাকে নিয়ে এমনই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানা যায়, এই কাস্টম ও ভ্যাট কর্মকর্তা ২০১৮ সালে নন ক্যাডার থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধিনস্ত কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগদান করেন। তার গ্রামে বাড়ি বরগুনা। জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ ডিসেম্বর। এই কর্মকর্তা কাজ করেছেন যেখানে সেখানেই তার বস হিসেবে পেয়েছেন সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক থেকে বদলি হয়ে যাওয়া(২৭ এপ্রিল ২০২৬) কমিশনার মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমানকে। তাকে বদলি করা হয়েছে ঢাকা ভ্যাট আপিল ২ এ। তার জায়গায় শুল্ক গোয়েন্দায় বদলি হয়ে মহাপরিচালক হিসেবে এসেছেন কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন। তিনি এসেই শুল্ক গোয়েন্দাকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছেন। এদিকে নতুন ডিজি জয়েন করার পর নেয়াজুর রহমানের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এই সরোয়ারকে বদলি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর। এই কাস্টমস কর্মকর্তা সরোয়ার মোংলা কাস্টমসে কাজ করেন কমিশনার নেয়াজুর রহমানের সঙ্গে। সেখানেও তিনি নেয়াজুর রহমানের প্রটোকল অফিসার অফিসার এবং সদর দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর নেয়াজুর রহমানের সঙ্গে আবারও কাজ করেন সরোয়ার। তিনি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে নেয়াজুর রহমানের সঙ্গে সদর দফতর এবং গুলশান বিভাগীয় সার্কেলের মতো জায়গাতে দাপোটের সঙ্গে কাজ করে দুর্নীতির রাম রাজস্ব করেছেন। আর মালিক হয়েছেন কোটি টাকার। গুলশানের বড়বড় প্রতিষ্ঠানকে কমিশনারের ভয় দেখিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজিও করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এরপর আবার যখন নেয়াজুর রহমান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তখন এই সরোয়ারকে পোস্টিং করিয়ে শুল্ক গোয়েন্দায় নিলেন নেয়াজুর রহমান। এখানেই শেষ নই, এই নেয়াজুর রহমান সরোয়ারকে বানালেন তার প্রটোকল অফিসার,সদর দফতরের এআরও এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের এয়ারফ্রেইট ইউনিটের অতিরিক্ত দায়িত্ব। এখানেই প্রশ্ন, যেখানে শুল্ক গোয়েন্দার অন্য কর্মকর্তারা একটি দায়িত্বে একজন সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা কাজের চাপে দম ফেলানোর সুযোগ পান না সেখানে এই সরোয়ার একা তিন পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। শুল্ক গোয়েন্দার সদর দফতরের এআরও মানে তিনি অলিখিত সবকিছু দেখভাল করে থাকেন। একদিকে ডিজির নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম,বেনাপোল,ভোমরা,মোংলা এবং ঢাকা কাস্টম হাউস থেকে মাসোয়ারাও তুলতেন। যা প্রতি সপ্তাহে কোটি টাকার বেশি। এই সরোয়ার শুল্ক গোয়েন্দায় যেদিন জয়েন করেছেন তার পর থেকেই শুল্ক গোয়েন্দার এই দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন ডিজিকে দিয়ে। সবশেষ ৮ মাস তিনি এয়ারফ্রেইট ইউনিটে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। আর এই সময়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের চাপ দিয়ে মামলার হুমকি দিয়ে সবমিলে প্রায় ৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছেন। গত ৮ মাসে শুল্ক গোয়েন্দার একাধিক কর্মকর্তাও বিষয়টি ওয়াকিবহাল রয়েছে। এছাড়া শুল্ক গোয়েন্দায় থেকে বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনে ডিজির নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি, কোন কর্মকর্তা চাঁদার টাকা দিতে না চাইলে ডিজিকে বলে খারাপ পোস্টিং এমনকি স্বয়ং শুল্ক গোয়েন্দার কর্মকর্তা তথা তার একাধিক সহকর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার নমুনাও রয়েছে। এছাড়া টাকা নিয়ে ডিজিকে ম্যানেজ করে ভালো পোস্টিং বাণিজ্যও করেছেন এই সরোয়ার। শুল্ক গোয়েন্দায় থেকে এই সরোয়ার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ২ কোটি টাকা দিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। গ্রামে করেছেন আলিশান বাড়ি। যদিও তিনি ঢাকার ভোটার। অন্যদিকে স্ত্রীর নামে শ্বশুর বাড়িতে করেছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। অন্যদিকে তার স্ত্রী বিলাসবহুল কোটি টাকার গাড়িতে চলাফেরা করে। এসব বিষয়ে জানতে কাস্টমস কর্মকর্তা সরোয়ারকে একাধিবার তার ব্যক্তিগত ফোনে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে কার ফোনে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেয়নি। এছাড়া শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক নেয়াজুর রহমানকে এসব বিষয়ে জানতে ফোন দেওয়া হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ফলে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।





মন্তব্য করুন