শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বিপাকে রাজধানীর গ্রাহক, বিইআরসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বিপাকে রাজধানীর গ্রাহক, বিইআরসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য গ্রাহক। মিরপুর, মোহাম্মদপুরের আদাবর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও অনেকের বিল আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার শুরু না করা কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে দেওয়ার পরও জুন মাসের বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা প্রতিকার পাননি অনেকেই।

মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকার বাসিন্দা নাসরিন নাহার জানান, তিন সদস্যের পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও জুন মাসে তা বেড়ে প্রায় ১৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। অথচ ওই সময়ে আগের তুলনায় কম সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার করা হয়েছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মিরপুরের এক গ্রাহক। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালেও তার বিদ্যুৎ বিল কখনো ১০ হাজার টাকা ছাড়ায়নি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এসির ব্যবহার কম থাকার পরও জুন মাসে বিল এসেছে ১৭ হাজার ৯০৬ টাকা।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ আরও বিস্ময়কর। তিনি জানান, জুন মাসের প্রথম ১৫ দিন পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে থাকায় বাসার অধিকাংশ বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ ছিল। তারপরও ওই মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, যা প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে অভিযোগের সংখ্যা বাড়লেও গ্রাহকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ বহুদিনের। কিন্তু অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তার মতে, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিইআরসির উচিত প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা।

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ তদন্তে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিইআরসি, ভোক্তা প্রতিনিধি ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করলে অভিযোগের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাজধানীজুড়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষের মধ্যে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত, প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল নির্ধারণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ গ্রাহকের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Facebook Comments Box